বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ সহজ করতে বর্তমানে চালু থাকা ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। পরে প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন এবং এ খাতে অধিকতর মার্কিন বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি এ সময় দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে শেভরনের বিনিয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্য-প্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ অন্যান্য খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির অনুরোধ করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রেস সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার নীতিকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক চুক্তি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে উভয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ সময় বাংলাদেশের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং আসিয়ান দেশগুলোর সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে তার দেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ নেতাদের সাক্ষাৎ: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে গতকাল দুপুরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে যে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম চলে আসছে, তা সমাধানে সরকার কাজ করছে। বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ঢাকা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাক্ষাৎ: ঢাকা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সভাপতি মীর সরফত আলী সপু ও সদস্য কামরুজ্জামান রতনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বুধবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এসব তথ্য জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতি ঢাকা কলেজের অতীতের গৌরবময় ঐতিহ্য ও উৎকর্ষ ফিরিয়ে আনার জন্য কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এক সময় ঢাকা কলেজ দেশের সর্বোৎকৃষ্ট বিদ্যাপীঠ ছিল। দেশের রাজনীতি, নেতৃত্ব, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, প্রশাসক ও আলোকিত মানুষ তৈরিতে ঢাকা কলেজ বিশাল অবদান রেখেছে। ছাত্র-শিক্ষক সবাই মিলে সেই গৌরবময় ঐতিহ্য ও উৎকর্ষ ফিরিয়ে আনতে হবে।












